
তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। সিরিজ নির্ধারণী শেষ ওয়ানডেতে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তার পর শেষ হাসি হেসেছে বাংলাদেশ। তাতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে মেহেদি হাসান মিরাজের দল।
রোববার (১৫ মার্চ) সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৯০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২৭৯ রানের বেশি তুলতে পারেনি পাকিস্তান।
এদিন রানতাড়ায় নেমে তাসকিন আহমেদ-নাহিদ রানাদের বোলিং তোপে শুরুতেই বিপদে পড়েছে পাকিস্তান। দলীয় ১৭ রানেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারায় তারা। প্রথম ওভারেই শাহিবজাদার (৬) উইকেট তুলে নেন তাসকিন। পরের ওভারেই আঘাত হানেন নাহিদ। এই গতিতারকার শিকার গত ম্যাচের দুর্দান্ত পারফর্মার মাজ সাদাকাত (৬)।

বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন তাসকিন আহমেদ। ছবি- এএফপি
দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ম্যাচের হাল ধরতে আসেন অভিজ্ঞ মোহাম্মদ রিজওয়ান। তবে সুবিধা করতে পারেননি তিনিও। পরের ওভারেই দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে রিজওয়ানের স্টাম্প উড়িয়ে দেন তাসকিন। তাতে প্রথম তিন ওভারেই তিনটি উইকেট হারায় সফরকারীরা। টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর ম্যাচের হাল ধরার চেষ্টা করেন গাজী ঘৌরি ও আব্দুল সামাদ। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৫০ রান যোগ করেন তারা।
ইনিংসের ১৪তম ওভারে গাজীকে ফিরিয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা এই জুটি ভেঙে দেন রানা। ৩৯ বলে ২৯ রান করে বিদায় নেন এই ব্যাটার। কিছুক্ষণ পর গাজীর দেখানো পথেই হাঁটেন সামাদ। মুস্তাফিজের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে ৪৫ বলে ৩৪ রান।
এরপর ষষ্ঠ উইকেটে সালমান আগা ও সাদ মাসুদের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। এই জুটিতে ৮২ বলে ৭৯ রান যোগ করেন তারা। দলীয় ১৬১ রান মাসুদকে (৩৮) ফিরিয়ে বিপজ্জনক এই জুটি ভাঙেন মুস্তাফিজ। পরের উইকেটে ফের ফাহিম আশরাফকে নিয়ে আরও ৪৮ রান যোগ করে আগা। এবার ফাহিমকে (৯) ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান তাসকিন।

বাংলাদেশের বোলারদের বেশ চাপে রাখেন সালমান আলী আগা। ছবি- এএফপি
তবে অষ্টম উইকেটে শাহিনের সঙ্গে জুটি গড়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন সালমান। এই জুটিতেই নিজের সেঞ্চুরিও তুলে নেন তিনি। তবে সেঞ্চুরির পর তার উইকেট নিয়ে দলকে আরও একবার ম্যাচে ফেরান তাসকিন। ৯৮ বলে ৯ চার ও ৪ ছক্কায় ১০৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ফেরেন সালমান।
শেষ ১২ বলে পাকিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৮ রান। তবে ৪৯তম ওভারের প্রথম ৫ বলে ২ ছক্কাসহ ১৪ রান দেন মুস্তাফিজ। তবে শেষ বলে হারিস রউফের উইকেট নিয়ে চাপে ফেলে দেন পাকিস্তানকে। শেষ ৬ বলে পাকিস্তানের জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৪ রান। রিশাদ বোলিংয়ে এসে প্রথম ৪ বলে মাত্র ২ রান দেন।
শেষ ২ বলে দরকার ছিল ১২ রান। পঞ্চম বলে ওয়াইডের সংকেত দেন আম্পায়ার। তবে এলবিডব্লুর রিভিউ নিয়ে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। বল প্রথমে আফ্রিদির ব্যাটে লাগায় ওয়াইড প্রত্যাহার করে নেন আম্পায়ার। তাতে শেষ ১ বলে দরকার ছিল ১ রান। তবে আফ্রিদি ব্যাটে-বলে সংযোগ ঘটাতে ব্যর্থ হয়ে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন। তাতে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।
এদিন বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন তাসকিন। ১০ ওভারে ১ মেডেনসহ ৪৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন এই পেসার। ১০ ওভারে ৫৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন মুস্তাফিজ। এছাড়া নাহিদ রানা ২টি এবং রিশাদ হোসেন একটি উইকেট শিকার করেন।

ক্যারিয়ারের প্রথম শতকের দেখা পান তানজিদ তামিম। ছবি- বিসিবি
এর আগে ব্যাট করতে নেমে তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরিতে ২৯০ রানের বড় পুঁজি গড়তে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। ১০৭ বলে ১০৭ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন তানজিদ। এছাড়া তাওহীদ হৃদয় ৪৪ বলে ৪৮, লিটন দাস ৫১ বলে ৪১, সাইফ হাসান ৫৫ বলে ৩৬ এবং নাজমুল হোসেন শান্ত ৩৪ বলে ২৭ রান করেন। পাকিস্তানের হয়ে ৩টি উইকেট শিকার করে হারিস রউফ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
বাংলাদেশ : ২৯০/৫ (৫০ ওভার)
পাকিস্তান : ২৭৯/১০ (৫০ ওভার)
ফলাফল : বাংলাদেশ ১১ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা : তানজিদ তামিম
সিরিজসেরা : তানজিদ তামিম ও নাহিদ রানা (যৌথভাবে)
ক্রিফোস্পোর্টস/১৫মার্চ২৬/বিটি






















