
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে ইরান খেলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কয়েকদিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সেই আহ্বানে এখনো সাড়া দেয়নি ইরান। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ ডোনিয়ামাল জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া তাদের জন্য কঠিন।
ফলে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদল না হলে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যাবে না ইরানকে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ হবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা এই তিন দেশে। ইরান না খেললে একটি জায়গা খালি হয়ে যাবে। সেই জায়গায় কোন দল সুযোগ পাবে, তা নিয়েই এখন আলোচনা শুরু হয়েছে।
আলোচনায় সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে দুই দেশের নাম ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
সাধারণত কোনো দল নাম তুলে নিলে সেই মহাদেশ থেকেই বিকল্প দল নেওয়া হয়। ফিফা–এর নিয়মেও এ বিষয়ে কিছু নির্দেশনা আছে। নিয়ম অনুযায়ী, যে দল সরে দাঁড়ায় তার জায়গায় সংশ্লিষ্ট মহাদেশের রানার–আপ দল অথবা বিশ্বকাপে সরাসরি সুযোগ না পাওয়া সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী দল সুযোগ পেতে পারে।
এই হিসাবে এশিয়ার মধ্যে বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া দলগুলোর মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তাই তাদের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে ইরাকের সম্ভাবনাও আছে। এই মাসে ইরাক আন্তঃমহাদেশীয় বাছাই পর্বে খেলবে বলিভিয়া ও সুরিনামের বিপক্ষে। সেই ম্যাচ জয়ের আগেই ইরান সরে দাঁড়ালে ইরাককে সরাসরি বিশ্বকাপে সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে ফিফা। তখন আমিরাতকে বাছাই পর্বে খেলতে হতে পারে।
আর যদি ইরাক বাছাই পর্ব জিতে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে, তাহলে ইরানের খালি জায়গায় সরাসরি সুযোগ পেতে পারে আমিরাত। সে ক্ষেত্রে তাদের আর আলাদা করে বাছাই ম্যাচ খেলতে হবে না।
আরেকটি সম্ভাবনা রয়েছে। ফিফা চাইলে মহাদেশ বিবেচনা না করে আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং অনুযায়ী অন্য কোনো দেশকেও সুযোগ দিতে পারে। সেই তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে ইতালি। তবে এতে পুরো বাছাই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে হবে, যা বেশ জটিল এবং বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
এই কারণেই ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান না খেললে এশিয়া থেকেই অন্য কোনো দলকে সুযোগ দেওয়ার পথই বেছে নিতে পারে ফিফা।
ক্রিফোস্পোর্টস/১২মার্চ২৬/টিএ























