
বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার ও পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান বর্তমানে ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখোমুখি। কারাগারে বন্দি এই কিংবদন্তি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্ব গণমাধ্যমে উঠে আসা বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ইমরান খান তার ডান চোখের প্রায় ৮০ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন।
ক্রিকেটের রাজপুত্র থেকে রাজনীতির ময়দান হয়ে বর্তমানে কারান্তরালে থাকা এই মহাতারকার এমন পরিণতিতে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট সমর্থকদের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
দুই দশকের অপরাজেয় ক্যারিয়ার
১৯৭১ সালের জুন থেকে ১৯৯২ সালের মার্চ পর্যন্ত দীর্ঘ ২১ বছর পাকিস্তান ক্রিকেটের প্রাণভোমরা ছিলেন ইমরান খান। ৮৮টি টেস্ট ও ১৭৫টি ওয়ানডে ম্যাচে তার পরিসংখ্যানই বলে দেয় কেন তিনি সেরাদের সেরা। টেস্টে ৩৮০৭ রান ও ৩৬২টি উইকেটের পাশাপাশি ওয়ানডেতে ৩৭০৯ রান ও ১৮২টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি। কেবল অলরাউন্ডার হিসেবেই নয়, অধিনায়ক হিসেবেও তিনি ছিলেন সেরা।
ইতিহাসের সোনালী অধ্যায় : ১৯৯২ বিশ্বকাপ
ইমরান খানের ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠতম অর্জন ১৯৯২ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়। তার জাদুকরী নেতৃত্বে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ইংল্যান্ডকে ২২ রানে পরাজিত করে পাকিস্তান প্রথমবারের মতো বিশ্বজয় করে। ম্যান ইন গ্রিনদের একটি অগোছালো দল থেকে বিশ্বশক্তিতে রূপান্তরের মূল কারিগর ছিলেন তিনি।

রেকর্ডের পাতায় ইমরান খান
টেস্টে অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ ১৮৭টি উইকেট নেওয়ার বিশ্ব রেকর্ড এখনও তাঁর দখলে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্যাট কামিন্সের উইকেট সংখ্যা ১৫১। এছাড়া একমাত্র পাকিস্তানি অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে ১০০০ রান ও ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। অধিনায়ক হিসেবে পাকিস্তানের পক্ষে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ৩,২৪৭ রান সংগ্রাহক তিনি। উইকেট শিকারের ক্ষেত্রেও (১৩১টি) তিনি রয়েছেন তালিকার শীর্ষে (ওয়াসিম আকরাম ও শন পোলকের পরেই)।
এছাড়াও এশিয়ান বোলার হিসেবে এক টেস্ট সিরিজে সর্বোচ্চ ৪০ উইকেট (ভারতের বিপক্ষে, ১৯৮২-৮৩) নেওয়ার রেকর্ডটি এখনও অক্ষুণ্ণ। তার নেতৃত্বেই পাকিস্তান প্রথমবারের মতো ভারত ও ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ পায়।
ব্যক্তিগত অর্জনের বাইরেও ইমরান খান ছিলেন দূরদর্শী। বর্তমান ক্রিকেটে যে নিরপেক্ষ আম্পায়ার প্রথা, এর মূল প্রবক্তা ছিলেন তিনি। ১৯৮৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে তিনি প্রথম নিরপেক্ষ আম্পায়ার আমন্ত্রণের দাবি তোলেন, যা পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে।
ক্যারিয়ারে ৮ বার প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ হওয়া এই কিংবদন্তি আজ জীবনের কঠিনতম ইনিংস পার করছেন।
ক্রিফোস্পোর্টস/১৯ফেব্রুয়ারি২৬/এনজি


























