টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ সামনে রেখে নতুন বিতর্কে পাকিস্তান। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালেও ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত গ্রুপ ম্যাচে না খেলার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার। তাঁর মতে, বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই আইসিসির।
পাকিস্তান সরকারের ঘোষণার পর থেকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ভারতের বিপক্ষে না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় ইসলামাবাদ। যদিও পুরো আসর বয়কট করছে না তারা।
এ প্রসঙ্গে গাভাস্কার বলেন, টুর্নামেন্টের ঠিক আগে এমন সিদ্ধান্ত নিলে আইসিসির হস্তক্ষেপ করা জরুরি। তাঁর মতে, এমন শাস্তি দেওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে কোনো দল একই পথ অনুসরণ করার কথা ভাবতেও না পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আইসিসির বোর্ডের, এককভাবে কারও পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভারতের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানানো চুক্তিভঙ্গের পর্যায়ে পড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন গাভাস্কার। সে ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি সাবেক এই অধিনায়ক।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসরে পাকিস্তান রয়েছে গ্রুপ ‘এ’-তে। একই গ্রুপে আছে ভারত, নামিবিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডস। ফলে সূচি অনুযায়ী ভারত–পাকিস্তান ম্যাচটি গ্রুপ পর্বেই হওয়ার কথা।
এখন নজর আইসিসির আনুষ্ঠানিক অবস্থানের দিকে। কারণ বিষয়টি শুধু একটি ম্যাচের নয়। টুর্নামেন্টের নিয়ম, সম্প্রচার স্বত্ব ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টান্ত সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত।
উল্লেখ্য, ঘটনার শুরু মূলত নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া নিয়ে। বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আইসিসি।
বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার পর থেকেই বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়ে আসছিল পাকিস্তান। খেলোয়াড়দের সাথে এক দফা বৈঠকও করেছেন পিসিবি প্রধান, সেখানে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে বিশ্বকাপ বয়কটে রাজি আছেন বলে জানিয়েছিলেন দলের খেলোয়াড়েরা। তারই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান সরকার ও বোর্ড মিলে সিদ্ধান্ত নেয় যে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করবে তারা।
ক্রিফোস্পোর্টস/২ফেব্রুয়ারি২৬/টিএ
