সাত বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ জিতল পাকিস্তান। স্লিপে দাঁড়িয়ে সালমান আগার হাতে যখন ম্যাথু কুনেমানের ক্যাচ ধরা পড়ল, তখনই স্পষ্ট হয়ে যায় ম্যাচের ভাগ্য। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ১০৮ রানে, আর পাকিস্তান তুলে নেয় ৯০ রানের দাপুটে জয়। সেই সঙ্গে নিশ্চিত হয় সিরিজও।
এদিনে ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৯৮ রান তোলে স্বাগতিকরা। শুরুটা অবশ্য খুব স্বস্তির ছিল না। দ্রুতই ফিরেছিলেন সাহিবজাদা ফারহান। তবে সাইম আইয়ুবকে নিয়ে পাল্টা আক্রমণে যান অধিনায়ক সালমান। দ্বিতীয় উইকেটে ২১ বলেই আসে ৫০ রান। সাইম ১১ বলে ২৩ করে বিদায় নিলেও থামেননি সালমান।
অধিনায়ক সালমানের ব্যাট থেকে আসে দ্রুত ফিফটি। ২৫ বলেই পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪০ বলে ৭৬ রান করেন তিনি, মারেন ৮টি চার ও ৪টি ছক্কা। ১৩তম ওভারে আউট হওয়ার সময় দলীয় স্কোর ১২৫। এরপর ইনিংস টেনে নেন উসমান খান। ৩৬ বলে ৫৩ রান করেন তিনি। শেষ দিকে শাদাব খানের ২০ বলে অপরাজিত ২৮ রানে ভর করে পাকিস্তান দুই শর কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া শুরু থেকেই চাপে পড়ে। ২২ রানের মধ্যেই ফিরে যান ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শ। মাঝের সারিতে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন ক্যামেরন গ্রিন ও ম্যাথু শর্ট। গ্রিন ২০ বলে ৩৫, শর্ট ২৩ বলে ২৭ রান করেন। কিন্তু অন্যরা দাঁড়াতেই পারেননি।
পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণের সামনে ধস নামে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং। আবরার আহমেদ ও শাদাব খান নেন ৩টি করে উইকেট। উসমান তারিক নেন ২টি, একটি করে পান মোহাম্মদ নেওয়াজ ও সাইম আইয়ুব। আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে এই প্রথম পেসার ব্যতীত পাকিস্তানের স্পিনাররা ম্যাচের সব কটি উইকেট ভাগাভাগি করে নিলেন।
সিরিজের প্রথম ম্যাচেও জয় পেয়েছিল পাকিস্তান। ফলে ব্যবধান দাঁড়ায় ২–০ তে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সবশেষ সিরিজ জিতেছিল ২০১৮ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সেই সাফল্য ফিরল পাকিস্তান শিবিরে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান ১৯৮/৫ (২০ ওভার) সালমান ৭৬, উসমান ৫৩, শাদাব ২৮*; জাম্পা ১/২৭।
অস্ট্রেলিয়া ১০৮ (১৫.৪ ওভার) গ্রিন ৩৫, শর্ট ২৭; আবরার ৩/১৪, শাদাব ৩/২৬।
ফল: পাকিস্তান ৯০ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সালমান আগা।
ক্রিফোস্পোর্টস/৩১জানুয়ারি২৬/টিএ
