সাকিব আল হাসানকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে বাংলাদেশ ক্রিকেট। বিসিবি তাকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রাখার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছে, সামনে পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজেই ফেরানোর লক্ষ্য বোর্ডের। তবে জাতীয় দলে ফিরলে সাকিবের পরিকল্পনা কী হওয়া উচিত এ নিয়ে ভিন্ন মত দিলেন বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল।
তার মতে, সাকিব যদি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরেন, তাহলে শুধু কয়েকটি ম্যাচ খেলে বিদায় নেওয়ার চেয়ে বড় লক্ষ্য ঠিক করা উচিত। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলার মানসিকতা নিয়েই ফেরা উচিত বাঁহাতি অলরাউন্ডারের।
ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আশরাফুল বলেন, সাকিব সম্প্রতি সব ফরম্যাটে খেলে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছার কথা বলেছেন। তবে বর্তমান ক্রিকেট বাস্তবতায় এক বা দুটি ফরম্যাটে মনোযোগ দিলেই দীর্ঘ সময় খেলা সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে তিনি মুশফিকুর রহিমের কথা টানেন, যিনি এখন নির্দিষ্ট ফরম্যাটে মনোযোগ দিয়ে খেলছেন।
আশরাফুলের যুক্তি হচ্ছে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের যুগে বয়স আর বড় বাধা নয়। তার মতে, নিয়মিত যত্ন ও পরিকল্পনা থাকলে ৩৭-৩৮ তো বটেই, ৪০ পেরিয়েও খেলা সম্ভব। ২০২৭ বিশ্বকাপের সময় সাকিবের বয়স সেই পরিসরেই থাকবে। তাই ওয়ানডে ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা সাজালে দল ও খেলোয়াড় দু’পক্ষেরই লাভ।
এদিকে বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর জানিয়েছেন, সাকিবকে ফেরানোর প্রক্রিয়া কোনো আই ওয়াশ নয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে মার্চে শুরু হতে যাওয়া ওয়ানডে সিরিজকে সামনে রেখে তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বোর্ড। ১২ মার্চ শুরু হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। পরে মে মাসে হবে টেস্ট সিরিজ, মাঝখানে রয়েছে পাকিস্তান সুপার লিগ।
সাকিব অবশ্য গত বছর দেশে ফিরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। নিরাপত্তা ও আইনি জটিলতার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি তিনি তিন ফরম্যাটেই দেশের দর্শকের সামনে শেষবার মাঠে নামার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন। বোর্ডও সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।
তবে আশরাফুলের মতে, সাকিব এখনো ফিট এবং নিয়মিত ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলছেন। মাঠের বাইরেও দীর্ঘ বিরতিতে নেই। ফলে শুধু আবেগের বিদায় নয়, বরং বাস্তবসম্মত দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়েই ফেরা উচিত।
ক্রিফোস্পোর্টস/৩০জানুয়ারি২৬/টিএ
