টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে বাংলাদেশের ভেন্যু ইস্যুতে তৈরি হওয়া অচলাবস্থার মধ্যে এক পর্যায়ে গ্রুপ অদলবদলের প্রস্তাব দিয়েছিল বিসিবি। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগে ভারত সফরে অনাগ্রহ জানিয়ে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার অনুরোধ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সেই সূত্রেই আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
তবে প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত এগোয়নি। আইসিসি যেমন এতে সায় দেয়নি, তেমনি আয়ারল্যান্ডও রাজি হয়নি গ্রুপ বদলে। বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকায় শেষ পর্যন্ত তাদের বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি।
বর্তমানে আয়ারল্যান্ড আছে গ্রুপ ‘সি’-তে। তাদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে ও ওমান। সূচি অনুযায়ী প্রস্তুতি অনেক আগে থেকেই শুরু করেছে আইরিশরা। ভেন্যু ও কন্ডিশন ধরে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আয়ারল্যান্ডের প্রধান কোচ হাইনরিখ মালান স্পষ্ট করে জানান, সূচি অনুযায়ীই তারা প্রস্তুতি নিয়েছেন। হঠাৎ ভেন্যু পরিবর্তন হলে সেই প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়ত।
মালান বলেন, বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো মাথায় রেখেই দলকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়া, ভিন্ন পরিস্থিতিতে খেলার মানসিকতা তৈরি করা এসবই তাদের পরিকল্পনার অংশ। ম্যাচ পরিস্থিতি ও প্রতিপক্ষ অনুযায়ী দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেই জোর দিচ্ছে দলটি।
তার মতে, খেলোয়াড়দের এমনভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে যাতে তারা নির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভেতরে থেকেও স্বাধীনভাবে খেলতে পারে। কন্ডিশন বদলে গেলে পুরো গেম প্ল্যান নতুন করে সাজাতে হতো, যা টুর্নামেন্টের ঠিক আগে ঝুঁকিপূর্ণ।
ঘটনার শুরু আইপিএলকে ঘিরে। কলকাতা নাইট রাইডার্স হঠাৎ করেই মুস্তাফিজুর রহমানকে তাদের স্কোয়াড থেকে ছেড়ে দেয়। নিলামে ৯.২০ কোটি টাকায় কেনা একজন পেসারকে এমনভাবে বাদ দেওয়ার পেছনে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছিল না। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিরাপত্তা কারণও জানানো হয়নি। তবে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তাপ এবং সামাজিক মাধ্যমে তৈরি হওয়া চাপ সব মিলিয়ে সিদ্ধান্তটি কেবল ক্রিকেটীয় ছিল না।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করে। তাদের প্রস্তাব ছিল ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যু, বিশেষ করে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হোক। আইসিসি একাধিক বৈঠক ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের পর সেই অনুরোধ নাকচ করে দেয়। বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার সময় দেওয়া হয় সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ নাম প্রত্যাহার করে নেয় যা আইসিসি ইভেন্টে কোনো দলের সরে দাঁড়ানোর বিরল নজির। এরপরই মূলত সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড।
ক্রিফোস্পোর্টস/২৮জানুয়ারি২৬/টিএ
