টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বেশি সময় নেই। সূচি অনুযায়ী মূল আয়োজক ভারত, সহ–আয়োজক শ্রীলঙ্কা। কিন্তু ঠিক এই সময়ে ভারতে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বড় প্রশ্ন উঠছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে বিশ্বকাপ আয়োজন কতটা নির্বিঘ্ন হবে?
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে নিপা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই সতর্ক অবস্থানে গেছে একাধিক দেশ। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত থেকে আসা যাত্রীদের অনেক জায়গায় বিশেষ স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। পরিস্থিতি জটিল হলে কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা ফের চালু হতে পারে এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ, ম্যাচ অফিসিয়াল, সাংবাদিক ও দর্শকদের ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক কয়েকটি গণমাধ্যম ইতোমধ্যে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। জিও সুপার, ট্যাপম্যাড, হেলথ মাস্টার ও খাইবার নিউজসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়নি।
সিজিটিএনের খবরে বলা হয়েছে, ভারতে ইতোমধ্যে কয়েকজন সংক্রমিত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছেন। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না গেলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন। ভারতের মতো জনবহুল দেশে ব্যাপক পরিসরে স্ক্রিনিং ও কন্টাক্ট ট্রেসিং কার্যক্রম পরিচালনা করা নিজেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
এর আগে, ২০২১ সালে ভারতে নির্ধারিত টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ পর্যন্ত সরিয়ে নিতে হয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে। সেই প্রেক্ষাপট মাথায় রেখেই অনেকে বলছেন, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়লে আইসিসি ও আয়োজকদের বিকল্প পরিকল্পনা রাখতে হতে পারে।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংক্রমণের গতিপ্রকৃতি ও ভারতের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের ওপর। বিশ্বকাপের দিনক্ষণ সব চূড়ান্ত। এখন নজর থাকবে নিপা পরিস্থিতি কত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং আয়োজক দেশ কতটা নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে।
ক্রিফোস্পোর্টস/২৭জানুয়ারি২৬/টিএ
