টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোর পর শেষ মুহূর্তে সুযোগ পেয়েছে স্কটল্যান্ড। তবে এই অপ্রত্যাশিত সুযোগে উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতির কথাও জানাল ক্রিকেট স্কটল্যান্ড।
সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ট্রুডি লিন্ডব্লেড স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া তাদের জন্য আনন্দের হলেও ঘটনাটি সুখকর নয়। তাঁর মতে, নির্দিষ্ট বাছাইপ্রক্রিয়া পেরিয়ে বিশ্বকাপে খেলাই প্রত্যাশিত পথ। এভাবে সুযোগ আসুক, সেটা তারা চাননি। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য খারাপ লাগার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারতে শুরু হবে ২০ দলের এই আসর। গ্রুপ ‘সি’-তে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি। র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদেই স্কটিশরা এই সুযোগ পেয়েছে।
তবে মাঠের লড়াইয়ের আগে প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জই এখন বড় বিষয়। অল্প সময়ের মধ্যে ভিসা, ফ্লাইট ও লজিস্টিকসের কাজ শেষ করতে হচ্ছে। লিন্ডব্লেড জানিয়েছেন, সময় খুব কম হলেও তারা প্রস্তুত। খেলোয়াড়েরা তৈরি, কেবল আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা। আইসিসির সহায়তার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনেই কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ড। এরপর ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ। ইউরোপের শীত ছেড়ে উপমহাদেশের আবহাওয়ায় মানিয়ে নেওয়াও বড় পরীক্ষা হবে তাদের জন্য।
২০২৪ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সম্ভাব্য জয় বৃষ্টিতে ভেসে যায়, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেও লড়াই ছিল সমানে সমান। সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই এবারও চমক দেখাতে চায় দলটি।
লিন্ডব্লেডের মতে, প্রস্তুতির সময় কম থাকলেও চাপ কিছুটা কম। তবে নিজেদের কাছে প্রত্যাশা কম নয়। বড় দলের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেই তারা ভারতে যাচ্ছে, বাকিটা মাঠের পারফরম্যান্সেই দেখা যাবে।
ঘটনার শুরু আইপিএলকে ঘিরে। কলকাতা নাইট রাইডার্স হঠাৎ করেই মুস্তাফিজুর রহমানকে তাদের স্কোয়াড থেকে ছেড়ে দেয়। নিলামে ৯.২০ কোটি টাকায় কেনা একজন পেসারকে এমনভাবে বাদ দেওয়ার পেছনে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছিল না। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিরাপত্তা কারণও জানানো হয়নি। তবে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তাপ এবং সামাজিক মাধ্যমে তৈরি হওয়া চাপ সব মিলিয়ে সিদ্ধান্তটি কেবল ক্রিকেটীয় ছিল না।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করে। তাদের প্রস্তাব ছিল ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যু, বিশেষ করে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হোক। আইসিসি একাধিক বৈঠক ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের পর সেই অনুরোধ নাকচ করে দেয়। বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার সময় দেওয়া হয় সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ নাম প্রত্যাহার করে নেয় যা আইসিসি ইভেন্টে কোনো দলের সরে দাঁড়ানোর বিরল নজির। এরপরই র্যাংকিংয়ে পরের দল স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হয়।
ক্রিফোস্পোর্টস/২৭জানুয়ারি২৬/টিএ
