অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি–টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগে দারুণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশের তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্স এর পাশাপাশি ২০২৫–২৬ মৌসুমে ফ্যান রেটিংয়ে সবার ওপরে উঠে এসেছেন তিনি।
ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রকাশিত টুর্নামেন্ট ফ্যান রেটিংস তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছেন রিশাদ। হোবার্ট হারিকেনসের হয়ে খেলা এই স্পিনার পেয়েছেন ৭.৮ রেটিং, যা তাকে তালিকার এক নম্বরে নিয়ে গেছে।

তার ঠিক পরেই আছেন অস্ট্রেলিয়ার স্টিভেন স্মিথ, যার রেটিং ৭.৭। তৃতীয় স্থানে থাকা স্যাম কারানের রেটিং ৭.৪। তালিকার প্রথম দশে আরও আছেন ফিন অ্যালেন, মার্কাস স্টয়নিস, জমান খান, স্যাম ফ্যানিং, কুপার কনোলি, মিচেল স্টার্ক ও ম্যাট রেনশ।
বিগ ব্যাশে এবার প্রথমবারের মতো খেলতে নেমেই নজর কাড়েন রিশাদ। মাঝের ওভারে ধারাবাহিক উইকেট নেওয়া এবং চাপের সময়ে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণে দ্রুতই সমর্থকদের পছন্দের খেলোয়াড়ে পরিণত হন তিনি। তার পারফরম্যান্সে হোবার্ট হারিকেনসও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয় পায়।
পুরো আসর মিলিয়ে ১২ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়েছেন রিশাদ। হোবার্ট হারিকেনসের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তিনি। শুধু দলেই নয়, টুর্নামেন্টজুড়ে স্পিনারদের মধ্যে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেটও তার। পার্থ স্করচারসের কুপার নোলি ও অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের লয়েড পোপও ১৫ উইকেট নিয়েছেন, তবে ধারাবাহিকতা ও ম্যাচ পরিস্থিতি বিবেচনায় রিশাদ ছিলেন আলাদা আলোচনায়।
শুরুর ম্যাচটায় অবশ্য কোনো উইকেট ছিল না। মেলবোর্ন থান্ডারের বিপক্ষে ৩ ওভারে ১৮ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন। তবে পরের ম্যাচেই মেলবোর্ন স্টারসের বিপক্ষে নেন ২ উইকেট।
রেনেগেডসের বিপক্ষে নিয়ন্ত্রিত বোলিং, পার্থে স্করচারসের বিপক্ষে ৩ উইকেট, স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে আবার ৩ উইকেট গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অধিনায়কের আস্থার জায়গা হয়ে ওঠেন তিনি। মাঝের ওভারগুলোয় রান চেপে রাখা ও ব্রেকথ্রু এনে দেওয়ার দায়িত্বটাই ছিল তার। সব মিলিয়ে ৪০ ওভার বোলিং করে ইকোনমি ৭.৮২ বিগ ব্যাশের মতো লিগে যা বেশ কার্যকরী বলা যায়।
সবকিছু মিলিয়ে বিগ ব্যাশে রিশাদের প্রথম জার্নিটা সুখকরই বলা যায়। গত মৌসুমে খেলতে না পারলেও এই মৌসুমে সুযোগ পেয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি।
ক্রিফোস্পোর্টস/২৬জানুয়ারি২৬/টিএ
