মাঠের ফুটবলে আগেই দক্ষিণ এশিয়া জয় করেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। এবার সেই সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হলো আরেকটি নতুন পালক। মালদ্বীপকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজিত সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে মালদ্বীপের জালে এক প্রকার উৎসব চালিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ১৪-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে আধিপত্য বিস্তার করে খেলে বাংলাদেশের মেয়েরা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।
বাংলাদেশ নারী দলের এই ঐতিহাসিক জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অভিজ্ঞ অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১৪টি গোল করে তিনি হয়েছেন সেরা গোলদাতা। ২০২২ সালে সাবিনার নেতৃত্বেই প্রথমবার সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। এবার ফুটসালেও শিরোপা জিতে দেশের একমাত্র ক্রীড়াবিদ হিসেবে দুটি ভিন্ন ফরম্যাটে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করার এক অনন্য রেকর্ড গড়লেন তিনি।
অধিনায়কের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, সাফ ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় নারী দলকে বিশেষভাবে অভিনন্দন। বাংলাদেশের একমাত্র ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে খেলার দুটি ভিন্ন ফরম্যাটে দলকে চ্যাম্পিয়ন করায় সাবিনাকে নিয়ে আমরা গর্বিত।
২০১৮ সালে ফুটসালে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হলেও দীর্ঘ ছয় বছর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। গত বছরের শেষ দিকে বাফুফের নতুন উদ্যোগে দল পুনর্গঠন করা হয়। দেশ ও বিদেশে কঠোর অনুশীলনের ফল হাতেনাতে পেল বাংলাদেশ।
ঐতিহাসিক এই জয়ের পর মাতসুশিমা সুমাইয়া তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতা ছিল চমৎকার। আমরা চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছি, এজন্য কোচিং স্টাফ ও সমর্থকদের অসংখ্য ধন্যবাদ।
এদিকে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ছেলেদের সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ পঞ্চম হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে। ছেলেদের পারফরম্যান্স নিয়েও আশাবাদী বাফুফে সভাপতি। তিনি মনে করেন, পুরুষ ও নারী-উভয় দলই বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে যে বাংলাদেশের ফুটসালে দারুণ প্রতিভা এবং জয়ের মানসিকতা রয়েছে।
ক্রিফোস্পোর্টস/২৫জানুয়ারি২৬/এসএ

