আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ পড়ার বিষাদময় দিনে দেশের ক্রিকেট ভক্তদের বড় এক চমক দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দীর্ঘ আট ঘণ্টার পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে বিসিবি জানিয়েছে, অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে এখন থেকে দেশ ও দেশের বাইরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য পুনরায় বিবেচনা করা হবে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেন বলেন, সাকিব আল হাসানের ফিটনেস, এভেইলেবিলিটি এবং ভেন্যুতে উপস্থিত থাকার সক্ষমতা থাকলে নির্বাচক প্যানেল অবশ্যই তাকে পরবর্তী সিরিজের জন্য বিবেচনা করবে।
তিনি জানান, সাকিব নিজেও দেশের হয়ে খেলতে আগ্রহী এবং হোম ও অ্যাওয়ে— উভয় ফরম্যাটেই তাকে পাওয়া যাবে।
রাজনৈতিক পরিচয় ও আইনি জটিলতা ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই সাকিবের জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। সাবেক সংসদ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি তার নামে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
বিসিবির পরিচালক আসিফ আকবর স্পষ্ট করে বলেছেন, সাকিব সাবেক সংসদ সদস্য নাকি অন্য কিছু, সেটা আমাদের বিবেচ্য নয়। আমরা খেলোয়াড় সাকিবকে চেয়েছি।
সাকিবের আইনি ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আমজাদ হোসেন জানান, বোর্ড সভাপতি এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তবে সাকিবের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক অপরাধের বিচার হওয়া না হওয়া সরকারের বিষয়, বিসিবির নয়।
কেন্দ্রীয় চুক্তি ও অন্যান্য সিদ্ধান্ত বোর্ড সভায় ২৭ জন ক্রিকেটারকে নতুন বছরের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই তালিকা করার সময় সাকিবের নাম গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসে। এছাড়া ব্যক্তিগত কারণে বোর্ড পরিচালকের পদ থেকে ইশতিয়াক সাদেকের পদত্যাগের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে বিসিবি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের ব্যর্থতা ঢাকতেই কি সাকিবের এই নাটকীয় ফেরা? এমন প্রশ্নের জবাবে বোর্ড কর্তারা জানান, সাকিবকে দলে নেওয়ার চেষ্টা আগে থেকেই ছিল এবং এটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত ইস্যু নয়।
বর্তমানে সৌদি আরবে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ব্যস্ত থাকা সাকিব দ্রুতই লাল-সবুজ জার্সিতে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ক্রিফোস্পোর্টস/২৫জানুয়ারি২৬/এনজি
