এক সময় জাতীয় দলের টি–টোয়েন্টি নেতৃত্ব ছেড়েছেন, দলে জায়গাও হারিয়েছেন। সেই নাজমুল হোসেন শান্তই এবার বিপিএলের দ্বাদশ আসরে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে নেতৃত্ব দিয়ে শিরোপা জিতিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে। সংবাদ সম্মেলনেও শান্ত বিগত দেড় বছরের কঠিন সময়ের কথা জানিয়ছেন।
অধিনায়ক হিসেবে এটি তার প্রথম বিপিএল ট্রফি। এবারের আসরে অধিনায়ক হিসেবে ১৩ ম্যাচে করেছেন ৩৫৫ রান। আছে ১ টি সেঞ্চুরি ও ১ টি হাফ সেঞ্চুরি। অথচ গত আসরে খেলেছিলেন মাত্র পাঁচ ম্যাচ, রানও ছিল না উল্লেখযোগ্য। সেই সময়টাকেই ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।
ফাইনালের পর সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, গত দেড় বছর তার জন্য কঠিন ছিল, আর সেই কঠিন হওয়ার দায় নিজেরই। পারফরম্যান্স ভালো হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত বলে মনে করেন তিনি। ভুল-ত্রুটি চিহ্নিত করে সেগুলো নিয়ে কাজ করেছেন। নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল ফিরতে পারবেন। এবারের বিপিএলে অন্তত দলে ইমপ্যাক্ট রাখার মতো অবদান রাখতে পেরেছেন বলে সন্তুষ্টি তার কাছে।
শান্তের মতে, দলে অবদান রাখতে পারলে ভালো লাগে। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম বিপিএল, তাই অনুভূতিটা আলাদা। রাজশাহীর হয়ে পুরো আসরটাকে তিনি দেখছেন পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন হিসেবে। শুরু থেকেই কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা ছিল। নিলামে দল গঠন নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি। সিনিয়র-জুনিয়রের সমন্বয়ে ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড তৈরি হয়েছিল বলে জানান।
তার মতে, শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিয়েছে মাঠের পারফরম্যান্স। দল যেমনই বানান, দিন শেষে মাঠে কী করছেন সেটাই আসল। সবাই নিজের ভূমিকা পালন করেছে। শিরোপার কৃতিত্ব তাই পুরো দলের।
রাজশাহীর সন্তান হিসেবে এবারই প্রথম নিজের শহরের হয়ে বিপিএলে খেলেছেন তিনি। সেই আবেগও ছিল বাড়তি প্রেরণা। স্থানীয় সমর্থকদের জন্য ট্রফি জেতানোকে বিশেষ অর্জন হিসেবেই দেখছেন শান্ত।
জাতীয় টি–টোয়েন্টি দলে না থাকলেও বিপিএলের মঞ্চে অধিনায়ক হিসেবে সাফল্য শান্তের জন্য এটি এক ধরনের প্রত্যাবর্তনের গল্প। সামনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার দরজা কতটা খুলবে, তা সময় বলবে। তবে এই আসর তাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
ক্রিফোস্পোর্টস/২৪জানুয়ারি২৬/টিএ
