২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে বাংলাদেশ। নিরাপত্তাশঙ্কায় ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থানে থেকেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বোর্ড সভায় কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বুধবার অনুষ্ঠিত ভার্চুয়ালি বৈঠকে ভোটাভুটির মাধ্যমে আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে— হয় ভারতে গিয়ে খেলতে হবে, নয়তো বিশ্বকাপের পথ ছাড়তে হবে।
আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বিসিবি প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেও ভোটাভুটিতে বড় ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ।
ইএসপিএনক্রিকইনফো জানায়, ১৫ জন বোর্ড পরিচালকের মধ্যে কেবল পাকিস্তান (পিসিবি) বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দিয়েছে। ভারত, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডসহ বাকি সব দেশ আইসিসির অবস্থানের পক্ষে অর্থাৎ ভারতে খেলার পক্ষেই মত দিয়েছে।
বাংলাদেশ পূর্ণ সদস্য হওয়ায় আইসিসি সরাসরি কোনো ব্যবস্থা না নিলেও ভোটাভুটির ফল বিসিবির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে ভারতেই যেতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য বিসিবিকে মাত্র ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে।
যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিসিবি তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে এবং ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তবে বাংলাদেশ দল টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়বে। সেক্ষেত্রে ইউরোপিয়ান কোয়ালিফায়ার থেকে বাদ পড়া স্কটল্যান্ডকে ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের বিকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করবে আইসিসি।
কেন এই জটিলতা?
গত ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবি যৌথভাবে আইসিসিকে জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না। এর আগে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ইস্যু এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বাংলাদেশের ম্যাচগুলো নিজেদের দেশে আয়োজনের প্রস্তাব দিলেও আইসিসি তা নাকচ করে দেয়।
বাংলাদেশ বর্তমান সূচি অনুযায়ী ‘সি’ গ্রুপে রয়েছে। যেখানে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে প্রথম তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ড। গ্রুপের শেষ ম্যাচটি মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে খেলার কথা বাংলাদেশের।
ক্রিফোস্পোর্টস/২১জানুয়ারি২৬/এসএ
