তিন দিনের ভারত সফর শেষে বুধবার সকালে ঢাকায় পৌঁছেছে ফুটবল বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি। দিল্লি ও গুয়াহাটিতে প্রদর্শনীর পর ট্রফিবাহী বিমান অবতরণ করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখানে আনুষ্ঠানিক স্বাগত অনুষ্ঠানে কাচঘেরা ট্রফির ওপর থেকে কালো কাপড় সরিয়ে উপস্থিতদের সামনে ট্রফি উন্মোচন করেন ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার গিলবার্তো সিলভা।
এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও। ট্রফির সামনে দাঁড়িয়ে সোনালি এই প্রতীকের দিকে তাকিয়ে ছিলেন কিছুটা নীরব ছিলেন তিনি। তিনি জানান এটিই জীবনে প্রথমবার সামনে থেকে বিশ্বকাপ ট্রফি দেখার অভিজ্ঞতা।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জামাল বলেন, সামনে থেকে ট্রফি দেখা তাঁর জন্য একেবারেই আলাদা অনুভূতি। টেলিভিশনের পর্দায় বহুবার দেখা হলেও বাস্তবে ট্রফিটা যে এত বড় আর ভারী, সেটা কাছে না গেলে বোঝা যায় না বলেও জানান তিনি। খাঁটি সোনার তৈরি এই ট্রফির ওজন শুনে তিনি নিজেও অবাক হন। তিনি মনে করেন বিশ্বকাপ ট্রফি বাংলাদেশে আসা আমাদের ফুটবলারদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।
বিশ্বকাপের প্রসঙ্গে নিজের পছন্দের কথাও জানান জামাল। ডেনমার্কে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার বলেন, জন্মভূমির প্রতি আলাদা টান থাকলেও ফুটবলের আবেগে ব্রাজিল তাঁর আজীবনের প্রিয় দল। বিশেষ করে ২০০২ সালের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দল তাঁকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। সে দলের রোনালদো, রিভালদো, রোনালদিনহোর সঙ্গে গিলবার্তো সিলভার নামও আলাদা করে উল্লেখ করেন তিনি।
ক্যারিয়ারের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে জামালের ভাবনায় এখন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। তাঁর মতে, বিশ্বকাপ ট্রফির মতো প্রতীক বাংলাদেশে আসা দেশের ফুটবলারদের জন্য বড় অনুপ্রেরণার উৎস। কঠোর পরিশ্রম করে যারা ফুটবলার হতে চায়, তাদের স্বপ্ন দেখার সাহস আরও বাড়াবে এই ট্রফি। একদিন নতুন প্রজন্মের হাত ধরেই বাংলাদেশ বিশ্বকাপে নিজেদের জানান দেবে বলে মনে করেন জাতীয় ফুটবল দলের এই অধিনায়ক।
এদিকে, বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশ্বকাপ ট্রফি নেওয়া হয়েছে রাজধানীর হোটেল র্যাডিসন ব্লুতে। দুপুর থেকে সেখানে সীমিত পরিসরে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোকা-কোলার ‘আন্ডার দ্য ক্যাপ’ ক্যাম্পেইনের নির্বাচিত বিজয়ীরাই কেবল ট্রফি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। নিরাপত্তা ও সংরক্ষণের স্বার্থে ট্রফি স্পর্শে রয়েছে যথেষ্ট কড়াকড়ি।
ক্রিফোস্পোর্টস/১৪জানুয়ারি২৬/টিএ
