তারকাহীন বিপিএলে রংপুর রাইডার্স বরাবরই আলাদা। প্রতি মৌসুমেই দল গঠনে বড় নামের দিকে ঝোঁক থাকে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির। নেতৃত্বেও থাকে ধারাবাহিকতা। ২০২৩ সাল থেকে নুরুল হাসানই দলটির অধিনায়ক। দেশি-বিদেশি তারকাদের সমন্বয়ে গঠিত রংপুর দল অন্যান্য দলের চেয়ে তুলনামূলক অনেক শক্তিশালী।
কিন্তু তারকাবহুল দল মানেই সাফল্য, বিপিএলে রংপুরের ইতিহাস সেই কথা বলে না। ২০১৩ সাল থেকে নিয়মিত খেললেও ২০১৭ সালের শিরোপা ছাড়া আর কোনো মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি তারা। প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির এই ফারাক এবারও দেখা যাচ্ছে।
চলতি আসরে এখন পর্যন্ত ৮ ম্যাচ খেলে রংপুর জিতেছে ৪টিতে, হেরেছে শেষ তিন ম্যাচে। পয়েন্ট তালিকায় অবস্থান চার নম্বরে। ঢাকা ক্যাপিটালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের পারফরম্যান্স বিবেচনায় প্লে–অফে ওঠা কঠিন নয় ঠিকই, তবে এই দল নিয়েও এমন অনিশ্চয়তা থাকার কথা ছিল না।
কারণ কাগজে-কলমে রংপুরই ছিল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল। জাতীয় দলের নিয়মিত তিন মুখ লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয় ও মুস্তাফিজুর রহমান একই স্কোয়াডে। কিন্তু পারফরম্যান্সের বিচারে এখন পর্যন্ত দলের সেরা খেলোয়াড় মুস্তাফিজ। ৮ ম্যাচে তাঁর শিকার ১৩ উইকেট।
ব্যাটিংয়েও ততটা উজ্জ্বল নয় রংপুর। হৃদয় ৮ ম্যাচে করেছেন ২০৭ রান। তবে ওই রানের বড় অংশ এসেছে দুটি ইনিংসে ৯৭* ও ৫৩। বাকি ছয় ইনিংসে মোট রান মাত্র ৫৭। লিটন দাসের সংগ্রহ ৮ ম্যাচে ১৬২। অধিনায়ক নুরুল হাসানের অবস্থা আরও হতাশাজনক ৬ ইনিংসে মোটে ৩০ রান।
বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যেও ধারাবাহিকতা নেই। খুশদিল শাহ ১৯০ রান করে কিছুটা অবদান রাখলেও অন্যরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। ফাহিম আশরাফ প্রথম তিন ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে দারুণ শুরু করেছিলেন, তবে জাতীয় দলের ব্যস্ততায় টুর্নামেন্ট ছাড়তে হয় তাঁকে। ডেভিড ম্যালান বাদ পড়েছেন দল থেকে। ইফতিখার আহমেদও এখনো বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। এসব কারণে কোচ মিকি আর্থারকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে কম্বিনেশন নিয়ে।
সব মিলে অন্যান্য দলের তুলনায় প্লে অফের সম্ভাবনায় বেশ এগিয়েই রংপুর। তবে মাঠের পারফরম্যান্সই মূলত বলে দেবে কারা পাচ্ছে চতুর্থ দল হিসেবে প্লে।অফের টিকিট।
ক্রিফোস্পোর্টস/১৪জানুয়ারি২৬/টিএ
