মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে ছাড়ার সিদ্ধান্তের রেশ গড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কলকাতা নাইট রাইডার্সের অফিসিয়াল ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম পেজে চোখ রাখলেই বিষয়টি বোঝা যাচ্ছে। প্রতি রিফ্রেশেই মিনিটে মিনিটে কমছে কলকাতার ফলোয়ার সংখ্যা। মুস্তাফিজকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার পর তাকে নিয়ে করা সব পোস্ট সরিয়ে নেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বাংলাদেশি সমর্থকরা।
আইপিএলের দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় সমর্থক ছিল কলকাতার। সাকিব আল হাসানের নিয়মিত খেলা, দুটি শিরোপায় তার অবদান, পরে লিটন দাসের অন্তর্ভুক্তি সব মিলিয়ে বেগুনি রঙের জার্সির সঙ্গে বাংলাদেশের সমর্থকদের আলাদা এক সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার সেই আবেগ আরও বেড়েছিল মুস্তাফিজকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নেওয়ার পর।
কিন্তু বিসিসিআইয়ের নির্দেশে হঠাৎ করে মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে সেই সম্পর্কেই বড় ধাক্কা লেগেছে। সমর্থকদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে যখন দেখা গেছে, দল ছাড়ার ঘোষণার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে মুস্তাফিজকে নিয়ে করা সব কনটেন্টও মুছে ফেলেছে কেকেআর। অনেকের চোখে বিষয়টি কেবল দলবদল নয়, বরং একজন খেলোয়াড়কে পুরোপুরি অসম্মান করার শামিল।
এর প্রতিবাদে বাংলাদেশি সমর্থকরা একের পর এক ‘আনফলো’ করছেন কলকাতার অফিসিয়াল পেজগুলো। শুধু কেকেআর নয়, আইপিএল ও বিসিসিআইয়ের বিভিন্ন সোশ্যাল হ্যান্ডেলেও একই প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। ফলোয়ার কমার এই চিত্র এখন প্রকাশ্যেই চোখে পড়ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরেও প্রভাব পড়তে পারে কলকাতার জনপ্রিয়তায়। আইপিএল এলেই বাংলাদেশে যেসব জার্সি সবচেয়ে বেশি দেখা যেত, তার শীর্ষে ছিল কলকাতার জার্সিটা। বাংলাদেশি ক্রিকেটার থাকুন বা না থাকুন, দলটির প্রতি আলাদা টান ছিল এই দেশের দর্শকদের। তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই জায়গাটা যে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে।
তবে এ নিয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স কর্তৃপক্ষ ফলোয়ার কমা বা সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে মাঠের বাইরে যে ক্ষতি শুরু হয়ে গেছে, সেটি ক্রমান্বয়ে দৃশ্যমান হচ্ছে।
ক্রিফোস্পোর্টস/৩জানুয়ারি২৬/টিএ
