প্রথমবারের মতো বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) খেলতে যাওয়া বাবর আজমকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা যেম থামছেই না। আসরের শুরু থেকেই আলোচনায় এই পাকিস্তানি তারকা ব্যাটার।
সিডনি সিক্সার্সের হয়ে বিগ ব্যাশে খেলা বাবর রান পাচ্ছিলেন না নিয়মিত, তবে গতকাল (বৃহস্পতিবার) মেলবোর্ন রেনেগেডসের বিপক্ষে ম্যাচে ব্যাট হাতে জবাব দিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক। মার্ভেল স্টেডিয়ামে সতীর্থ মোহাম্মদ রিজওয়াননের মেলবোর্নের বিপক্ষে ১৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সিক্সার্স।
এমন পরিস্থিতিতে এক প্রান্ত আগলে রেখে বাবর আজম খেলেন অপরাজিত ৫৮ রানের ইনিংস। ৪৬ বলের এই ইনিংসে ছিল চারটি চার ও একটি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচে ৬ উইকেটে জয় পায় সিডনি সিক্সার্স। ফিফটি পূর্ণ করার সময় গ্যালারিতে দর্শকদের উচ্ছ্বাসও ছিল চোখে পড়ার মতো। এটি চলতি মৌসুমে বাবরের দ্বিতীয় অর্ধশতক, এর আগে ২০ ডিসেম্বর সিডনি থান্ডারের বিপক্ষেও ফিফটি করেছিলেন এই তারকা ব্যাটার।
তবে এমন ইনিংসের দিনেও সমালোচনার মুখে বাবর। ফক্স ক্রিকেটের লাইভ কমেন্ট্রিতে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান উইকেটকিপার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট বাবরের ব্যাটিং ধরন নিয়ে তোলেন প্রশ্ন। গিলক্রিস্টের মতে, বাবর সাধারণত ১০০ এর আশেপাশে স্ট্রাইকরেটে খেলেন, যা অনেক সময় তাঁর সঙ্গী ব্যাটারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।
গিলক্রিস্ট বলেন, ‘বাবর শক্তিশালী পাওয়ার হিটার হিসেবে পরিচিত নন। তিনি সহজে লাইন পেরিয়ে বড় শট খেলবেন, এটা তাঁর স্বাভাবিক খেলা নয়। তবে শুধু রান-এ-বল ভেবে খেললে দায়িত্বটা অন্য ব্যাটারের ওপর পড়ে যায়, এখানে আরও উদ্যোগী হতে হবে।’
গিলক্রিস্টের এমন মন্তব্য মুহুর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেকে গিলক্রিস্টের মন্তব্যকে সমর্থন করলেও বিরোধিতাকারীর সংখ্যাও কম নয়।
তবে সবসময় ব্যাটে সমালোচনার জবাব দেওয়া বাবরের পরিসংখ্যান কথা বলছে তার পক্ষেই। গতকালের ম্যাচের অর্ধশতকটি ছিল টি-টোয়েন্টিতে বাবরের ৯৭তম অর্ধশতক, সঙ্গে রয়েছে ১১টি সেঞ্চুরি। ম্যাচে ড্যানিয়েল হিউজ ও জশ ফিলিপের দ্রুত বিদায়ের পর চাপের মুখ থেকে দলকে বাঁচিয়ে ম্যাচ জয়ে রেখেছেন বড় অবদান।
ম্যাচে বাবরকে নিয়ে আলোচনা এখানেই শেষ নয়, ম্যাচে কমেন্ট্রিতে উঠে আসে আরেকটি আলোচনা। মার্ক হাওয়ার্ড ও মাইকেল ভন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা নিয়ে তুলনা করেন বাবর আজাম ও বিরাট কোহলির। কোহলির ইনস্টাগ্রাম অনুসারী যেখানে ২৭ কোটির বেশি, সেখানে বাবরের অনুসারী প্রায় ৬৪ লাখ। হাওয়ার্ড মন্তব্য করেন, ১ কোটি অনুসারী মানে প্রায় অস্ট্রেলিয়ার অর্ধেক জনসংখ্যা।
তবে সব ছাপিয়ে বাবরের নজর বিগ ব্যাশ শেষে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। যেখানে বাবরের ব্যাটের দিকে তাকিয়ে থাকবে ভক্ত-সমর্থকরা।
ক্রিফোস্পোর্টস/২জানুয়ারি২৬/এআই
