নতুন বছর মানেই নতুন লক্ষ্য, নতুন পরিকল্পনা। ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে সামনে এগোনোর সুযোগ। ২০২৬ সালকে ঠিক সেইভাবেই দেখছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। নারী ও পুরুষ দুই দলকেই অপেক্ষা করছে ব্যস্ত এক আন্তর্জাতিক বছর। যেখানে বিশ্বকাপের মত বড় মঞ্চের পাশাপাশি অনেকগুলো দ্বিপাক্ষিক সিরিজও থাকবে।
বছরের শুরুতেই পুরুষ দলের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বিপিএল শেষ করে ফেব্রুয়ারি–মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক এই আসরকে সামনে রেখেই মূলত সাজানো হয়েছে পুরো বছরের সূচি।
বিশ্বকাপের পরপরই ঘরের মাঠে পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে লম্বা আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু হবে। মার্চ–এপ্রিলে দুই টেস্ট, তিন ওয়ানডে ও তিন টি–টোয়েন্টির এই সিরিজে ব্যস্ত সময় পার করবেন শান্ত-মিরাজ-লিটন দাসরা। এরপর এপ্রিলেই বাংলাদেশ সফরে আসবে নিউজিল্যান্ড, যেখানে খেলবে সীমিত ওভারের সিরিজ।
পুরো বছরজুড়েই একের পর এক সিরিজে নামতে হবে পুরুষ দলকে। মে মাস ছাড়া প্রায় প্রতিটি মাসেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড, ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে রয়েছে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টির সূচি। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালে পুরুষ দল খেলবে পাঁচটি টেস্ট সিরিজ, সাতটি ওয়ানডে সিরিজ এবং বিশ্বকাপসহ একাধিক টি–টোয়েন্টি সিরিজ। লাল বলের ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা ফেরানো এবং সাদা বলের ক্রিকেটে নিজেদের চিরচেনা রুপে ফিরে আসার বড় সুযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই বছরকে।
নারী দলও পিছিয়ে নেই ব্যস্ততায়। বছরের শুরুতেই টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব খেলবে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। সেই বাধা পেরোলে জুন–জুলাইয়ে খেলবে মূল বিশ্বকাপে। এ ছাড়াও বছরজুড়ে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একাধিক ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টি সিরিজ। আন্তর্জাতিক সূচির দিক থেকে নারী দলের জন্যও ২০২৬ সাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে নতুন বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সামনে সময়টা পরীক্ষা আর প্রস্তুতির। বিশ্বকাপের চাপ, টানা সফর, ঘরের মাঠে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ সবকিছু সামলে কতটা এগোতে পারে লাল–সবুজের প্রতিনিধিরা, সেটাই দেখার বিষয়।
ক্রিফোস্পোর্টস/১জানুয়ারি২৬/টিএ
