নাটকীয় এক ফাইনালের শেষে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছে প্যারিস সাঁ জার্মাঁ। কাতারের দোহায় আলি স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের ফ্ল্যামেঙ্গোকে টাইব্রেকারে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক শিরোপা জিতেছে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১–১ সমতার পর পেনাল্টি শুটআউটে ২–১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে পিএসজি। ম্যাচের নায়ক গোলকিপার মাতভেই সাফোনভ। যিনি একাই চারটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন।
বুধবার রাতের ফাইনালে শুরু থেকেই ম্যাচটি ছিল টানটান। দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে খেলা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এগিয়ে যায় পিএসজি। ৩৮ মিনিটে জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড খভিচা কাভারাতস্কেলিয়ার গোলে লিড নেয় ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় ফ্ল্যামেঙ্গো। ৬২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জর্জিনিও। এরপর দুই দলই বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও আর কেউ গোলের দেখা পায়নি। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও কেউ কোনো গোল করতে পারেনি।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই পার্থক্য গড়ে দেন সাফোনভ। ফ্ল্যামেঙ্গোর টানা চারটি শট ঠেকিয়ে দিয়ে পিএসজিকে শিরোপার পথে এগিয়ে দেন এই রুশ গোলরক্ষক। অন্যদিকে পিএসজির হয়ে ভিতিনহা ও নুনো মেন্দেস কোনো মিস না করে গোল করেন।
এই জয়ের মাধ্যমে ২০২৫ সালে পিএসজির ইতিহাসে যোগ হলো ষষ্ঠ ট্রফি। এর আগে তারা জিতেছে লিগ আঁ, কুপ দ্য ফ্রঁস, চ্যাম্পিয়নস লিগ, ত্রফে দে শঁপিওঁ ও উয়েফা সুপার কাপ। ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জয়ের মধ্য দিয়ে ক্লাব ইতিহাসে প্রথম বৈশ্বিক শিরোপার স্বাদ পেল পিএসজি।
শিরোপা জয়ের পর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন মিডফিল্ডার ভিতিনহা। তিনি বলেন, ফ্ল্যামেঙ্গোর মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দলের বিপক্ষে ম্যাচটি সহজ ছিল না, তবে দল হিসেবে শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য যা দরকার ছিল, সেটাই তারা করেছে।
প্রসঙ্গত, ফিফা আয়োজিত নতুন ফরম্যাটের ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকাসহ ছয়টি মহাদেশীয় কনফেডারেশনের চ্যাম্পিয়নরা অংশ নেয়। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সরাসরি ফাইনালে খেলার সুযোগ পায় পিএসজি। সেই মঞ্চেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে লুইস এনরিকের দল, আর ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার জানান দিল ফরাসি জায়ান্টরা।
ক্রিফোস্পোর্টস/১৮ডিসেম্বর২৫/টিএ
