বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় প্রতিযোগিতাগুলোর মালিকানার অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অবস্থান নিয়েছে ৯৬টি দেশ। এর মধ্যে ইউরোপের ৫৫টি এবং মধ্য ও উত্তর আমেরিকার ৪১টি সদস্য দেশ ফিফার পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে।
জরুরি বৈঠকের পর ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের ৫৫টি সদস্য দেশ সর্বসম্মতিক্রমে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। সংস্থাটির ঘোষণা, ফিফার সদস্য দেশগুলোর ভোটে প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে তারা বিশ্বকাপ, নারী বিশ্বকাপ, ক্লাব বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বর্জন করবে।
অন্যদিকে মধ্য ও উত্তর আমেরিকার ফুটবল সংস্থার ৪১টি সদস্য দেশও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বয়কটের ঘোষণা না দিলেও প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের অভিযোগ, এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় আলোচনা হয়নি এবং সদস্য দেশগুলোর মতামত জানানোর জন্য খুব অল্প সময় দেওয়া হয়েছে।
ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় দুই হাজার কোটি ডলার মূল্যের একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে। সেই প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে। পরিকল্পনাটি অনুমোদিত হলে সদস্য দেশগুলোর আর্থিক অনুদানও বাড়ানো হবে। তবে প্রস্তাব পাস না হলে অনুদানের পরিমাণ কমে যাবে।
ইউরোপীয় সংস্থার দাবি, বিশ্বকাপ কোনো বাণিজ্যিক পণ্য নয় এবং এর মালিকানা বিক্রির সুযোগ নেই। তাদের মতে, বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা মালিকানায় যুক্ত হলে ফুটবলের সিদ্ধান্ত খেলাটির স্বার্থে নয়, বরং মুনাফার কথা বিবেচনা করেই নেওয়া হবে। একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছে মধ্য ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলোও।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের ভোটে এই প্রস্তাবের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পরিকল্পনাটি অনুমোদিত হলে কার্যকর হবে নতুন কাঠামো। তবে ইতোমধ্যে ৯৬টি দেশের বিরোধিতায় ফিফার এই পরিকল্পনা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ক্রিফোস্পোর্টস/৩১জুলাই২৬/টিএ



